দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত ও আশ্বাসের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনের সড়কে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর তারা এ সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে সকাল থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। কর্মসূচির শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগ্রন্থ পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং চাকরিপ্রাপ্ত হয়ে যোগদানের আগেই মারা যাওয়া সহকর্মীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আন্দোলন ঘিরে শাহবাগ থানার সামনে পুলিশের ব্যারিকেড ও একটি জলকামান মোতায়েন করা হয়। এ সময় শাহবাগ থেকে টিএসসি অভিমুখী সড়কের একাংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী ফল প্রকাশের ১৭৫ দিন পার হলেও এখনো যোগদান করতে পারেননি। নিয়োগের সব ধাপ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকতে হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
আন্দোলনের মধ্যেই রোববার দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগে নির্ধারিত ২৯ অক্টোবরের পরিবর্তে আগামী ১ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। পরদিন ২ অক্টোবর তাদের পদায়ন করা হবে। যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে এবং পরে পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আন্দোলনকারীরা সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে জানান, প্রজ্ঞাপন জারি ও ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন।
এর আগে শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা শেষে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে নিয়োগে বিলম্ব হয়েছে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, আগামী ২৯ অক্টোবর নতুন শিক্ষকদের যোগদান করানো হবে। তবে পরদিন নতুন সিদ্ধান্তে যোগদানের তারিখ এক মাসেরও বেশি এগিয়ে আনা হয়।
চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত হলেও তারা এতদিন যোগদান করতে পারেননি।
এমএম/